বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
সারাবাংলা

শের-ই-বাংলা থেকে তথ্যমন্ত্রী, ঐতিহ্যের বাতিঘর বরিশাল জিলা স্কুল

১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:২৮ দুপুর

photo

দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা-ঐতিহ্যের কথা উঠলেই যে প্রতিষ্ঠানের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেটি বরিশাল জিলা স্কুল। প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি বিদ্যালয় নয়, একটি ঐতিহ্য, একটি ইতিহাস এবং হাজারো স্বপ্নের জন্মভূমি। এখানকার শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসেছেন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, শিক্ষাবিদ, বিচারপতি, সাহিত্যিক, সামরিক কর্মকর্তা, সংস্কৃতিবিদ ও প্রশাসনের অসংখ্য কৃতী ব্যক্তি। পুরোনো ইটের ভবন, বিশাল খেলার মাঠ, সকালের পিটি, ঘণ্টার ধ্বনি আর শিক্ষকদের আন্তরিকতা সব মিলিয়ে বরিশাল জিলা স্কুল আজও দক্ষিণ বাংলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ঐতিহাসিক সূচনা ও প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

১৮২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর। তখন ব্রিটিশ শাসিত বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার আলো ছিল সীমিত। সেই সময় তৎকালীন বরিশালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. এন. ডব্লিউ. গ্যারেট আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন বরিশাল ইংলিশ স্কুল। মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় বিদ্যালয়ের পথচলা। পরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ১৮৫৩ সালে বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বরিশাল জিলা স্কুল। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন জন স্মিথ এবং প্রথম বাঙালি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন শিক্ষাবিদ বাবু তনুরাম লাহিড়ী।

শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল নয় বরং এমন নাগরিক গড়ে তোলা- যারা দেশ, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে নেতৃত্ব দেবে। সেই লক্ষ্যই দুই শতাব্দী পরও প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

ব্রিটিশ আমল থেকেই এক সংগ্রামী ইতিহাস

বরিশাল জিলা স্কুলের ইতিহাস দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বরিশাল ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম কেন্দ্র। এই বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সেই সময় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ও বাংলা ভাষার দাবির প্রতি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল সচেতনতা গড়ে ওঠে। পরে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও বিদ্যালয়ের অসংখ্য বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাদের সাহসিকতার কথা বিদ্যালয়ের ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

শিক্ষার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের প্রতিষ্ঠান

বরিশাল জিলা স্কুলের দীর্ঘদিনের সুনামের পেছনে রয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা, মানসম্মত শিক্ষা এবং মূল্যবোধভিত্তিক পাঠদান। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবই নয়, সততা, সময়ানুবর্তিতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়েছেন। প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ও নটরডেম কলেজে অসংখ্য শিক্ষার্থী চান্স পায়।‌