রাজনীতি
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১০ দুপুর
সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে তর্ক, বিতর্ক, দ্বিমত ও বহুমত থাকলেও ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ’ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় হত্যা মামলায় অভিযুক্ত, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ও ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত মোহাম্মদ আরিফ সরকারকে গত ৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এবং মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহিন আলমকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত এবং তাদের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) ঢাকা ও ইন্টারপোলের উদ্যোগে দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, এসব কার্যক্রম প্রমাণ করে যে বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ইন্টারপোল, সংশ্লিষ্ট বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার (বেনজীর) বর্তমান অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, কথিত একাধিক পাসপোর্টের অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত ও আইনানুগভাবে জব্দ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
‘সরকার আইনের শাসন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সব আইনগত, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পুলিশি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হয়েছে,’ যোগ করেন মন্ত্রী।
বেনজীরকে ইউএই থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেমের বক্তব্যের জবাবে তিনি আরও বলেন, শুধু এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাউকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, এর জন্য আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ইউএই থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আইনি সহায়তা (এমএলএ) প্রক্রিয়া রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘সরকার-টু-সরকার কথা বলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-টু-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলে। সব বিষয়ে দুবাই ছুটে গেলে হয় না, লিগ্যাল প্রসিডিউর আছে,’ বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।