বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
সারাবাংলা

বাবাদের উপহারের বিলাসবহুল গাড়ি কক্সবাজারে এনে বেকায়দায় ছেলেরা

২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪০ দুপুর

photo

কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা হোটেলের পার্কিং থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বৈধ আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গাড়িগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ।

গাড়ি জব্দের বিষয়ে ওশান প্যারাইসের একটি হলরুমে করা প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজভী আহম্মেদ জানান, ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণা দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। পরে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়। এভাবে শুল্ক ফাঁকির একটি কৌশল অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে তিনটি গাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। গাড়িগুলো জাপানি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, অভিনব কায়দায় গাড়ির শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হচ্ছে। বিএমডব্লিউ, টয়োটা রয়াল সালুন, ক্রাউন, রেঞ্জ রোভারের মতো বিলাসবহুল গাড়িও এভাবে তৈরি করে সড়কে চালানো হচ্ছে।

রেজভী আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মোংলা বন্দরে ‘ইউজড কার পার্টস’ ঘোষণা দিয়ে আনা কয়েকটি চালানের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে চালানগুলো পরীক্ষা করে তাদের মনে হয়েছে, আমদানি করা যন্ত্রাংশগুলো একসঙ্গে করলে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

শুল্ক গোয়েন্দার এই কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক কাস্টমস বিধি অনুযায়ী পণ্যের ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বা মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। কোনো পণ্যের প্রয়োজনীয় প্রায় সব যন্ত্রাংশ একসঙ্গে এনে সেটিকে সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পণ্যে রূপ দেওয়ার সুযোগ থাকলে সেটি চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়টিকে সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে তারা আমাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে এটা চালিয়ে আসছিলেন।

এ ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তথ্যদাতা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান রেজভী আহম্মেদ।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আবাসিক এলাকার ভবনের পার্কিং থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িটির বৈধ আমদানি বা ক্রয়ের কোনো নথি সংশ্লিষ্টরা দেখাতে পারেননি এর ব্যবহারকারী। পরে সেটি জব্দ করা হয়। এ অভিযানের পর তথ্য আসে এ ধরনের তিনটি গাড়ি কক্সবাজারে গেছে। সেই সূত্র ধরে খুঁজতে গিয়ে ওশান প্যারাডাইস হোটেলের পার্কিংয়ে গাড়িগুলো অবস্থান পাওয়া যায়।

রেজভী আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা ওশান প্যারাডাইস হোটেলে গিয়ে পার্কিংয়ে গাড়িগুলোর অবস্থান নিশ্চিত হই। দুটি গাড়িতে নম্বর প্লেট ছিল না। গোয়েন্দা টিম হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানায়, এ গাড়ি তিনটি শুল্কফাঁকির গাড়ি। এগুলো কারা এনেছে তাদের সঙ্গে কথা বলা দরকার। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গোয়েন্দা টিম গাড়ির মালিক দাবিদারদের সঙ্গে কথা বলে। তাদের গাড়িগুলোর যথাযথ কাগজ দেখাতে অনুরোধ করা হয়।’

কিন্তু গাড়ির সঙ্গে থাকা তরুণরা সেগুলো ‘রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন’ বলে দাবি করেন। তবে ‘অ্যাপ্লাইড ফর রেজিস্ট্রেশন’ লেখা বা এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা। পরে সকালে আবার কাগজপত্র চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা সময়ক্ষেপণ করছিলেন। বিকেল পর্যন্ত নানা টালবাহানা করা হয়েছে। পরে আইন অনুযায়ী ডিটেনশন মেমো ইস্যু করে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তরুণরা দাবি করেছেন, গাড়িগুলো তারা তাদের বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নথিপত্র যাচাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন রেজভী আহম্মেদ।