মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
খেলার মাঠে

বিপিএল না হওয়ায় বিসিবির কাছে যে নতুন দাবি করল কোয়াব

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০৬ রাত

photo

বিপিএল হবে না, এটা নিশ্চিত। বিসিবি নানা যৌক্তিক কারণেই এ বছর বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর বিপিএল না করার কারণও জানিয়েছে বিসিবি। কারণ এক ও অভিন্ন; বিপিএলের জঞ্জাল পরিষ্কার করা। অনিয়ম দূর করা। বিপিএলের গায়ে যে নানা কালো দাগ লেগে আছে, তা পরিষ্কার করে একটা সুন্দর সাজানো-গোছানো আয়োজন করা।

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পর একই কথা ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলাপ করেছে বিসিবি। ক্রিকেটাররাও নীতিগতভাবে বোর্ডের সে পরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তবে বিপিএল এক বছর না হলে ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ক্ষতি হবে, সেটা পোষানোর জোর দাবি ছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ‘কোয়াবের’ পক্ষ থেকে।

আর তাই গত ৩০ আগস্ট বোর্ডের সঙ্গে কোয়াবের সভা মুলতবি থেকে যায়। কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। গত পরশু রোববার কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আগামী পরশু ১ সেপ্টেম্বর আবার নিজেরা বসব। এবং আমাদের নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তটা আবার বোর্ডের কাছে পেশ করব।’

বলে রাখা ভালো, বোর্ডের কাছে কোয়াবের দাবি ছিল একটাই, তাহলো; বিপিএল না হলে যে অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্রিকেটাররা ক্ষতির সম্মুখীন হবে, সেটা যে করেই হোক পুষিয়ে দিতে হবে। বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে সে দাবি মানেনি।

তার প্রেক্ষিতেই আজ মঙ্গলবার দুপুরে কোয়াব নেতৃবৃন্দ তথা দেশের সিনিয়র ক্রিকেটাররা আবার এক বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত (দেশের বাইরে থেকে জুমে অংশ নিয়েছেন), এছাড়া মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, ফজলে মাহমুদ রাব্বি স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

এর বাইরে মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম প্রমুখ ক্রিকেটাররাও জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। নিজেরা কথা বলে কোয়াব নেতৃবৃন্দ বসেছিলেন বিসিবি অফিসিয়ালদের সঙ্গে। বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্রিকেটাররা একটি সুস্পষ্ট দাবি পেশ করেছেন।

কি সেই দাবি? আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে কোয়াবের সেই দাবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও কোয়াব প্রধান মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ‘আমরা বিসিবির অধীনে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট, ওয়ানডে আসর ও টি-টোয়েন্টি আসরের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি।’

‘এতে করে আমাদের অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ক্রিকেটারের এক বছরের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। না হয় বিপিএলের টপ ক্যাটাগরির জন বিশেক ক্রিকেটারের এনসিএল, বিসিএলের পেমেন্ট তথা ম্যাচ ফি গড়পড়তা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বাড়ালে বাকিদের কোনোই লাভ হয় না। তাই আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে বোর্ডের সামনে তুলে ধরেছি।’

মিঠুন পরিষ্কার জানান, ‘আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। তাতে এনসিএল ও বিসিএলে পেমেন্ট বাড়িয়ে দেওয়া হবে অনেকটাই। আমরা ভেবে দেখলাম, তাতে করে ২০ ক্রিকেটারের বিপিএল না খেলার আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কিন্তু অন্যদের কোনোই লাভ হবে না।’

‘তাই আমরা আজ বোর্ডকে জানিয়েছি, আমাদের বোর্ডের অধীনে যে আসরগুলো আছে, এনসিএল, বিসিএল, ওই দুই আসরের ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটসহ সব আসরের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে দিতে হবে।’

সেই বাড়ানোর পরিমাণ কত হবে? মিঠুনের সাজানো-গোছানো জবাব, ‘আমরা আকাশ-কুসুম কিছু চাইনি। আপনি জানেন, অন্য আট-দশটা টেস্ট খেলুড়ে দেশের তুলনায় আমাদের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট এবং লিস্ট এ (প্রিমিয়ার লিগ নয়, বিসিএল বা এনসিএল ওয়ানডে) ক্রিকেটের ম্যাচ ফি অনেক কম। সেটা বাড়িয়ে একটা পর্যায়ে নিতে হবে। একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করতে হবে।’

‘তাতে করে বর্তমান যে ম্যাচ ফি আছে, তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ মিলবে ক্রিকেটারদের এবং সেটা শুধু ২০/২৫ জন নয়, অন্তত ১০০-এর বেশি ক্রিকেটারই সেই অর্থ পাবে। আমরা বিসিবির কাছে সেটাই চেয়েছি।’

‘বোর্ড আমাদের কাছ থেকে ৫-৬ দিন সময় চেয়েছে। এর মধ্যে মিটিং করে আমাদের জানানো হবে বলে জানিয়েছে। আশা করছি, আমাদের দাবি অনুযায়ী বিসিবি আয়োজিত ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট এ টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ হবে। আমাদের ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিও পুষিয়ে যাবে।’