শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
অর্থনীতি

কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ টাকা

০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২২ রাত

photo

নওগাঁয় কাঁচা মরিচে বেড়েছে ঝাঁজ। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি। যা খুচরায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষোভ জানিয়েছে ক্রেতারা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। চলতি বর্ষায় প্রায় ১০ হেক্টর আবাদ নষ্ট হয়েছে। দেশি, সাদা ও আকাশি জাতের মরিচ আবাদ করছেন চাষীরা।

শুক্রবার ও মঙ্গলবার নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর সাপ্তাহিক হাটবার। ভোরের আলো ফোটার পর কৃষকরা হাটে মরিচ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সকাল ৮টার মধ্যে মরিচ বেঁচাকেনা শেষ। এ হাটে কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কৃষক মরিচ বিক্রি করার আসেন। হাটে প্রকারভেদে মরিচ বিক্রি হয় ২৩০-২৫০ টাকা কেজি। ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। দাম বৃদ্ধির পর প্রতি হাটে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার মরিচা বেচাকেনা হচ্ছে। মরিচের দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা যায় তিন সপ্তাহ আগে বৃষ্টিতে সবজিসহ মরিচের আবাদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ায় মরিচের উৎপাদন কমেছে। ফলে হাট-বাজারে সরবরাহ কমেছে। দুই সপ্তাহ আগে মরিচের দাম ছিলো ৮০-৯০ টাকা কেজি। যা পর্যায়ক্রমে দাম বেড়েছে এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর বাজার জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের হাট। এ হাটে প্রায় ২০-২২ লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। বছরে ৬ থেকে ৭ মাস চলে এই হাট। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। কৃষকরা বলেন- সপ্তাহখানেক আগে দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। হঠাৎ করে অধিক বৃষ্টি হওয়ার কারণে নিচু এলাকার কাঁচা মরিচের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মরিচের গাছ নষ্ট হওয়ার কারণে মরিচের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। 
সদর উপজেলার ব্রুজরুক-আতিতা গ্রামের কৃষক রুবেল বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছ দুই সপ্তাহ থেকে অল্প পরিমান মরিচ উঠানো হচ্ছে। আজ হাটে ২২ কেজি নিয়ে এসে ২৩০ টাকা কেজি দরে দাম পেয়েছি। সপ্তাহে দুই দিন মরিচ উঠানো হচ্ছে। দাম ভাল পেয়ে খুশি। তবে কিছুদিন পরে মরিচ উৎপাদনের পরিমান বেশি হলে দাম কমে আসবে। সোহেল নামে এক ক্রেতা বলেন- বেশকিছু দিন থেকে মরিচের দাম বাড়তি। দাম শুনেই চোখ কপালে উঠানোর মতো। আধা কেজি মরিচ কিনতে এসে ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। এছাড়া অন্য সবজির দামেও আগুন। পাইকারি ব্যবসায়ি রুস্তম আলী বলেন, চট্টগ্রামে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাঁচা মরিচ কেনা হয়। তিনজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে চট্টগ্রামে মরিচ নিয়ে যায়। যেখানে প্রায় ২৫-২৬ লাখ টাকার মরিচ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে হাটে মরিচের সরবরাহ কমে আসায় দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান বলেন, বাজারে মরিচের দাম ভাল রয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে। তবে বর্ষার পরিমাণ যদি বাড়ে মরিচের আবাদ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।