বিনোদন
চাকরি ছেড়ে অভিনয়, যেভাবে দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠেন প্রদীপ
০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৬ রাত
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান তিনি। ৭৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা স্ত্রী কল্যাণী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন। আজ বিকেলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
হিন্দি, তেলুগু, তামিলসহ একাধিক ভাষার সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছেন প্রদীপ। পর্দায় তার ভয়ংকর উপস্থিতি দর্শকদের মনে গেঁথে থাকলেও অনেকেই জানেন না, অভিনয়ে আসার আগে তিনি ব্যাংকে চাকরি করতেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে প্রদীপ রাওয়াত একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি অভিনয়ে মনোযোগ দেন।
এসএস রাজামৌলি পরিচালিত ‘সাই’ (২০০৪) সিনেমাই তাকে দক্ষিণী চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় খলনায়কে পরিণত করেছিল। আর তার শেষ তেলুগু সিনেমা যেন সেই যাত্রারই এক প্রতীকী সমাপ্তি হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণী সিনেমায় জনপ্রিয় হওয়ার আগেই হিন্দি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। বি. আর. চোপড়ার কালজয়ী টিভি সিরিজ ‘মহাভারত’-এ অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে অসংখ্য হিন্দি সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এসএস রাজামৌলির ‘সাই’ সিনেমায় নিষ্ঠুর গ্যাংস্টার বিকশু যাদব চরিত্রে অভিনয় করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান প্রদীপ রাওয়াত। নীতিন ও জেনেলিয়া ডি’সুজা অভিনীত ছবিতে নাকে বড় রিং পরা তার ভয়ংকর লুক ও শক্তিশালী উপস্থিতি তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় খল চরিত্র হিসেবে স্থান করে নেয়।
এই সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর প্রভাসের ‘ছত্রপতি’, চিরঞ্জীবীর ‘স্ট্যালিন’, আল্লু অর্জুনের ‘দেশামুদুরু’সহ একের পর এক সফল তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেন। একই সময়ে সূরিয়ার তামিল ব্লকবাস্টার ‘গজিনি’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে।