জাতীয়
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে পেছাচ্ছে বাংলাদেশ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৪ দুপুর
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে উল্টো পেছাচ্ছে দেশ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ছয় মাসে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের হার কমে গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও পরবর্তীসময়ে প্রশাসনে রদবদলের কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার কমে যেতে পারে। তবে জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে থাকতে মাঠপর্যায়ে ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় নিবন্ধনের হার কমে গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জন্মের এক বছরের মধ্যে জন্মনিবন্ধনের হার ৬৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে উঠলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) মুর্শিদা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে এখনই নির্দিষ্ট কোনো কারণ চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে গঠিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এসডিজি এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সিআরভিএস আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে জন্ম-মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ হার কমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
নির্ধারিত আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নির্দেশিকার আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
২০২৪ সালে হার ছিল আরও কম
সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুর এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ ও ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে জন্মনিবন্ধনে ৬৩ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই জন্মনিবন্ধনের হার ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ, একদিকে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে নিবন্ধনের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে সম্প্রতি অর্জিত হারই আবার কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে সিআরভিএস সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, জন্মের এক বছরের মধ্যে সারাদেশে জন্মনিবন্ধনের হার ২০২৫ সালে ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো সন্তোষজনক নয়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। ওই সভায় এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম এবং ৮০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নিবিড় কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়।