সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
জাতীয়

জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৭ দুপুর

photo

বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।

সেই সঙ্গে তার অগ্রাধিকারে থাকবে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

দায়িত্ব গ্রহণের ভাষণে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, উন্নয়ন অর্জন দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘকে শুধু রক্ষা নয়, বরং আরও কার্যকর ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: এ ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভার্স ফর অল’। অর্থাৎ, আস্থা পুনরুদ্ধার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।

নতুন সভাপতি বলেন, জাতিসংঘের প্রতি আস্থা শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ফিরবে না; প্রতিদিনের কাজ, সিদ্ধান্ত, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং মানুষের জন্য দৃশ্যমান ফলাফলের মাধ্যমে সেই আস্থা অর্জন করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য তিন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব

সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় উঠে এসেছে— রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ঝুঁকি এবং উন্নয়ন অর্থায়ন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে তিনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থও তার জলবায়ু অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল ও জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

অন্যদিকে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের ওপর তার জোর বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেন। জাতিসংঘ সনদের ‘পরবর্তী প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করার’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং কোনো দেশকে পিছিয়ে না রাখা। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য হাতে আর মাত্র চার বছর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসডিজির মাত্র ৩৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা সঠিক পথে রয়েছে বা মাঝারি অগ্রগতি অর্জন করছে। ফলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলন সামনে রেখে উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি কমানো, ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন।

তৃতীয় অগ্রাধিকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধি। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনের আগে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তহবিল কার্যকর করা এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য আরও বেশি জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র ও নিচু উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের কথাও জানান তিনি। সমুদ্র, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সংকটকে পরস্পর সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করে বৈজ্ঞানিকভিত্তিক পদক্ষেপের ওপরও গুরুত্ব দেন।