কৃষি ও প্রকৃতি
এক রানির কয়েকশো রাজা, পরোপকারী মৌমাছির বিচিত্র জীবন
২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:২২ দুপুর
মৌমাছি সত্যিই এক আশ্চর্য প্রাণী। এরা নিজেরাই বাড়ি তৈরি করে। এবং সেটাকে রীতিমত প্রাসাদই বলা যায়। এই প্রাসাদের কিন্তু একটা নাম আছে। একে বলে মৌচাক। মৌমাছিরা এটি তৈরি করে শীত বা অত্যধিক গরম থেকে নিজেদের বাঁচাতে, খাবার জমা রাখতে এবং থাকার জন্য স্থায়ী আশ্রয় হিসেবে। এক একটি মৌচাকে প্রায় ২০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত মৌমাছি থাকে। এরা খুবই পরিশ্রমী, পরোপকারী ও সামাজিক প্রাণী।
পৃথিবীতে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি আছে। এদের কেউ একা থাকে আবার কেউ বা থাকে দলবদ্ধভাবে। কেউ প্রচুর মধু জমা করে আবার কেউ একেবারেই করে না। কেউ বা উদ্দাম, পোষ না মানা, ঘুরে বেড়ায় বনে-বাদাড়ে। কিছু কিছু প্রজাতি কিন্তু আছে, যাদেরকে মানুষ পোষ মানাতে পেরেছে। আরা এই পোষ মানা মৌমাছিদেরকে নিয়েই মৌচাষীরা তৈরি করে মৌ-খামার। বাজারের বেশিরভাগ মধুই কিন্তু আসে এসব খামার থেকে।
অবাক ব্যাপার হচ্ছে এদের মধ্যেও মানুষের মতো শ্রেণিবিভাগ আছে। আছে এক এক শ্রেণির এক এক ধরনের কাজ। মৌমাছিদের প্রধানত তিনটি শ্রেণি আছে-রানি মৌমাছি, রাজা মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। একটি মৌচাকে এতোগুলো মৌমাছির মধ্যে রানি থাকে কেবল একটি। আর রাজা! মৌমাছিদের রাজা কিন্তু আবার কয়েকশো, আর বাকিরা সব কর্মী। ওদের সমাজটাই যে এ রকমের। রানি একজন হলেও সেই কিন্তু মৌচাকের সর্বময় কর্ত্রী। সবাই তার কথা মেনে চলে। আকারেও এরা অন্যদের চেয়ে বড় হয়, প্রায় ১.৮ থেকে ২.২ সেন্টিমিটার। ডিম ফুটে বেরও হয় তাড়াতাড়ি। মাত্র ১৬ দিনের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রানি ডিম থেকে বের হয়ে আসে।
রানি মৌমাছির কাজ হচ্ছে মৌচাকের বাকি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা আর ডিম পাড়া। প্রতিদিন এরা প্রায় এক হাজারটিরও বেশি ডিম পেড়ে থাকে। মজার ব্যাপার হলো রানি ডিম পাড়ে হুল দিয়ে। অবাক হওয়ার কিছু নেই। মৌমাছিরা হুল দিয়ে আত্মরক্ষাও করে, আবার ডিমও পাড়ে। একটি রানি মৌমাছি বাঁচেও বেশিদিন, প্রায় চার থেকে সাত বছর। আমাদের কাছে বিষয়টি তেমন কিছু না হলেও মৌমাছিদের কাছে অনেক কিছু। কারণ, একটি রাজা মৌমাছি বাঁচে মাত্র কয়েকদিন আর একটি কর্মী মৌমাছি বাঁচে বড়জোর কয়েক সপ্তাহ।