সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
কৃষি ও প্রকৃতি

যে প্রযুক্তি আগামী দিনের কৃষিকে বদলে দিতে পারে

২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:২৭ দুপুর

photo

বাংলাদেশের কৃষি আজ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার ওঠানামা, নতুন নতুন রোগ-পোকামাকড় ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি; অন্যদিকে কৃষকের তথ্যের ঘাটতি, বাজারনির্ভরতা এবং কৃষি উপকরণ ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের অভাব, সব মিলিয়ে কৃষি ক্রমেই একটি জটিল ব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কৃষির সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্যাটেলাইট টেকনোলজি, ড্রোন ও ডিজিটাল প্লাটফর্ম—এসব প্রযুক্তিকে কৃষকের হাতের নাগালে নিয়ে আসতে পারলে কৃষি শুধু উৎপাদননির্ভর থাকবে না; হয়ে উঠবে তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিসচেতন, নির্ভুল ও টেকসই কৃষি।

কীটনাশক নির্ভরতা: কৃষির নীরব সংকট

বাংলাদেশের কৃষিতে রোগ ও পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন রোগ বা পোকার সঠিক পরিচয়, আক্রমণের মাত্রা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমা না বুঝেই কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। অনেক কৃষক বাস্তবে রোগ-পোকা শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত তথ্য না পেয়ে স্থানীয় পরামর্শ, প্রতিবেশী কৃষকের অভিজ্ঞতা অথবা কখনো কখনো কৃষি-উপকরণ বিক্রেতার পরামর্শের ওপর নির্ভর করেন। ফলে একই সমস্যার জন্য একাধিক পণ্য ব্যবহার, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় প্রয়োগ কিংবা ভুল সময়ে স্প্রে করার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কীটনাশক মানুষের জন্য সম্ভাব্যভাবে বিষাক্ত এবং কৃষক ও কীটনাশক প্রয়োগকারীরা সরাসরি সংস্পর্শের কারণে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কীটনাশকের অনিরাপদ ব্যবহার তীব্র বিষক্রিয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। অতএব, সমাধান কীটনাশক পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়; বরং প্রয়োজনের আগে রোগ শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাসায়নিক ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমানো। ডব্লিউএইচও-ও প্রয়োজন হলে রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি অরাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


এআই যখন কৃষকের ‌‘ডিজিটাল সহকারী’

এই জায়গাতেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এআই কৃষি প্রযুক্তির গুরুত্ব। ২০২০ সাল থেকে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ডা. চাষী ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ কৃষকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। লক্ষ্য হলো, কৃষকের কাছে এমন একটি ডিজিটাল সহায়ক ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া, যেখানে মাঠের সমস্যার প্রাথমিক তথ্য কৃষক নিজেই সংগ্রহ করতে পারবেন এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন। কৃষক ফসলের আক্রান্ত অংশের ছবি তুলে এআই-ভিত্তিক সিস্টেমে বিশ্লেষণের জন্য পাঠাতে পারেন। রোগ বা পোকামাকড়ের সম্ভাব্য পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা পাওয়া সম্ভব। এর ফলে ‘আগে ওষুধ, পরে রোগ’—এই প্রচলিত মানসিকতার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে ‘আগে শনাক্তকরণ, পরে ব্যবস্থাপনা’ পদ্ধতি। এটি কৃষির জন্য একটি মৌলিক পরিবর্তন। কারণ একজন কৃষক যদি জানতে পারেন তার ফসলে আসলে কী সমস্যা হয়েছে, সমস্যাটি কতটা গুরুতর এবং কী ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, তাহলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক কীটনাশক কেনার প্রবণতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সঠিক রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা কৃষকের অর্থ, সময় ও শ্রম সাশ্রয় করতে পারে। তবে এখানে একটি বৈজ্ঞানিক সতর্কতা জরুরি, এআই-এর পরামর্শকে অন্ধভাবে অনুসরণ নয়; প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষিবিদ, রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ এবং অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের নির্দেশনার সঙ্গে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এআই হবে ডিসিশন-সাপোর্ট টুল, মানুষের বিকল্প নয়।