সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
কৃষি ও প্রকৃতি

তালগাছ যেভাবে প্রকৃতি রক্ষা করে

২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:২৪ দুপুর

photo

তালগাছ প্রাচীন একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও তাল একটি অতিপরিচিত ফল। তালগাছকে বলা হয় কল্পবৃক্ষ। এই বৃক্ষের কাছে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষিনির্ভর দেশ কম্বোডিয়ার জাতীয় বৃক্ষ তাল। এরই আদ্যোপান্ত একবার জেনে নিই।

প্রকৃতি রক্ষার্থে তালগাছ

প্রকৃতির এক পরম বন্ধুর নাম তালগাছ। খরায় পুড়ছে মাটি, সংকটে মাটির নিচে থাকা পানির স্তর, বইছে শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তালগাছের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের দেশে প্রত্যেক বছর বজ্রপাতে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বজ্রপাতে নিহতদের বেশিরভাগ ক্ষেত-খামারে হাওর-বিলে কাজ করতে যাওয়া কৃষক, জেলে ও মাঝি বা পথচারী। দূর পাথারের মধ্যে বজ্রপাত বেশি ঘটে। এ ক্ষেত্রে তালগাছ বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে ভূমিকা রাখে। ফাঁকা রাস্তার ধারে সারি সারি সুউচ্চ তালগাছ থাকলে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কেননা বজ্রপাত উচ্চ স্থানে পতিত হয়।


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবর্ধনে

দীর্ঘদেহী তালগাছ। এর গুণাগুণ আরও লম্বা। নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি। এরা কিন্তু বাসা বাঁধে ওই তালগাছের মাথার ওপর। দৃষ্টিতে নন্দন বাবুই পাখির বাসা। ফাঁকা রাস্তার দুধারে সারি সারি তালগাছ লাগানো থাকলে দূর থেকে মনে হয় যেন তালসাম্রাজ্য। তালগাছের গুঁড়ি থেকে বানানো হয় তালের ডোঙা। এই ডোঙা দেখতে খুবই সুন্দর ও স্থায়ী। তালকাঠ দিয়ে ঘরের স্থায়ী আড়া বানানো হয়। যেটা দেখতে বেশ চমৎকার। বাঁদুড়কে তালগাছে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। শকুন, ঈগল ও ময়ূরসহ অসংখ্য পাখি সারা দিন মাঠে চরে বেড়ানোর পর রাতে ঘুমায় তালগাছের মাথায়। টিয়া পাখি তালগাছের ওপরে ডিম পাড়ে।

লোকজ উপাদান

তালগাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে তৈরি হয় বাহারি কারুপণ্য। যেমন- হাতপাখা, ঘরের ছাউনি, টুপি, পাটি, হাতব্যাগ, বর্ষাতি বা ছাতা, মাথাল, তালপাতার বাঁশিসহ বিভিন্ন লোকজ উপাদান। বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে তালবৃক্ষের ব্যাপক অবদান আছে। কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার আগে তালপাতায় সব লিপিবদ্ধ করে রাখা হতো। অনেক জাদুঘরে বা লাইব্রেরিতে তালপাতার পুঁথি এখনো দেখা যায়। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা—এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যে উপকরণ দরকার সেটা তালগাছ থেকে পেয়ে থাকি। তালগাছের পাতা দিয়ে যেমন- হাতপাখা, টুপি, ব্যাগ, বর্ষাতি, মাথাল, ঝুড়ি বানানো হয়। পাকা তালের আঁশ থেকে পাওয়া যায় রেয়নের মতো সুতা, যা দিয়ে তৈরি করা যায় বস্ত্র। তালগাছ শক্তির প্রতীক।