তথ্য ও প্রযুক্তি
সাগরে ডাটা সেন্টার: স্যামসাংয়ের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে এআইয়ের ভবিষ্যৎ
২৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:১২ বিকাল
জমি, বিদ্যুৎ ও পানি-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের এই যুগে এ তিন সংকটেই ডাটা সেন্টার বানাতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে দক্ষিণ কোরিয়ার শিপ-বিল্ডিং জায়ান্ট স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবার নজর দিয়েছে সমুদ্রের দিকে।
গ্রিসের এথেন্সে অনুষ্ঠিত পোসিডোনিয়া ২০২৬ শিপিং সম্মেলনে স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রিক জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ক্লিন এনার্জি ক্যারিয়ারস এবং ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি লয়েড'স রেজিস্টার একসঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছে। লক্ষ্য একটাই, সমুদ্রে ভাসমান ডাটা সেন্টার তৈরি, যাকে বলা হচ্ছে ফ্লোটিং ডাটা সেন্টার (এফডিসি)। এই যৌথ পরিকল্পনায় স্যামসাং দেখবে প্রযুক্তি ও নির্মাণের কাজ, ক্যাপিটাল দেখবে অর্থায়ন ও প্রকল্প খোঁজার দিকটা, আর লয়েড'স রেজিস্টার করবে নিরাপত্তা যাচাই ও সনদ প্রদানের কাজ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ভাসমান কেন্দ্রটির ক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট, যাতে হাজার হাজার এআই সার্ভার বসানো সম্ভব হবে। জাহাজটি যখন কোনো বন্দর বা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করবে, তখন পানির নিচের কেবলের মাধ্যমে স্থলভাগের বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নেওয়া যাবে। আবার দূরে থাকলে জাহাজেই বসানো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত ফুয়েল সেল দিয়ে নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করে নিতে পারবে এই কেন্দ্র। সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহার হবে সরাসরি সমুদ্রের পানি, ফলে স্থলভাগের মিঠা পানির ওপর চাপ পড়বে না।
ক্যাপিটাল ক্লিন এনার্জি ক্যারিয়ারসের প্রধান নির্বাহী জেরি কালোগিরাতোস বলছেন, ভাসমান ডাটা সেন্টারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর নমনীয়তা। চাহিদা বা বিদ্যুৎ সরবরাহের ওঠানামা অনুযায়ী পুরো কেন্দ্রটিকেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এতে জাহাজ মালিকদের জন্যও একটা নতুন ব্যবসার দুয়ার খুলছে। এতদিন জাহাজ ভাড়া দেওয়া হতো তেল, গ্যাস বা পণ্য পরিবহনের জন্য। এখন সেই একই মডেলে ভাসমান ডাটা সেন্টারও লিজ দেওয়া যাবে প্রযুক্তি ও ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে।