শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
পরিবেশ ও জলবায়ু

হিমাঙ্কের নিচে টিকে থাকা সপুষ্পক উদ্ভিদের জিনের রহস্য উন্মোচন

২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৩৩ দুপুর

photo

আন্টার্কটিকার প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা বিরল এক সপুষ্পক উদ্ভিদের সম্পূর্ণ জিনের নকশা বা জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেছেন চিলির একদল বিজ্ঞানী।

তীব্র খরা, হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে নিতে পারে এমন চরম আবহাওয়া সহনশীল নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এ আবিষ্কার নতুন দুয়ার উন্মোচন করল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

চিলির গবেষকদের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কেবল দুটি সপুষ্পক উদ্ভিদের একটির সম্পূর্ণ জেনেটিক ম্যাপ বা জিনোম সিকোয়েন্স তৈরি করেছেন।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘কোলোবান্থাস কুইটেনসিস’, যা পৃথিবীর অন্যতম শীতল ও শুষ্ক মহাদেশ আন্টার্কটিকার হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা, তীব্র পানির অভাব এবং অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই গাছটি বিজ্ঞানীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল।

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা ও খরা বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষিখাতকে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গবেষকরা বলছেন, জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন হওয়ায় জিন-এডিটিং বা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এ উদ্ভিদের সহনশীলতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সাধারণ কৃষিজ ফসলে স্থানান্তর করা সম্ভব কি না তা যাচাইয়ের পথ খুলল।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’-এর বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘জিনোম বায়োলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’-এ।

এ গবেষণা ‘পোলারিওন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এতে উদ্ভিদটির জিনগত নকশার সবকটি বা ৪০টি ক্রোমোজোম-স্কেল স্ক্যাফোল্ড সফলভাবে একত্র করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণাপত্রের অন্যতম প্রধান লেখক ও চিলির ‘কেপ হর্ন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার’-এর সহযোগী গবেষক এদুয়ার্দো কাস্ত্রো বলেছেন, “আমরা এ উদ্ভিদের পুরো জিনোম সিকোয়েন্সিং ও অ্যাসেম্বল করতে পেরেছি।”

গবেষণাটিতে তার সঙ্গে সহ-লেখক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন চিলির ‘পন্টিফিকাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি’র ক্লাউডিও মেনেসেস।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গবেষক এদুয়ার্দো কাস্ত্রো বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ট্রান্সজেনিক বা কৃত্রিমভাবে ভিন্ন প্রজাতির জিনের সংমিশ্রণে গাছ তৈরি করা নয়, বরং পুষ্টিগুণসম্পন্ন কোনো ফসলের নিজস্ব জিনোম সম্পাদনা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণ জিনোম ম্যাপ বা নকশা হাতে পাওয়ার পর নির্দিষ্ট জিনগুলো চিহ্নিতের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। তবে এমনটা এখনও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ এক প্রক্রিয়া।

কাস্ত্রোর ভাষ্য, কাঙ্ক্ষিত জিন চিহ্নিতকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর তা কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে গবেষকদের আরও অন্তত পাঁচ থেকে দশ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

চিলির এ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সার্বিক সহায়তা করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষক দল। তারা বলেছেন, এ সাফল্য ‘কোরিয়া পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর আগের প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে হয়েছে।

এর আগে, আন্টার্কটিকার এ উদ্ভিদের জিনোমের কেবল আংশিক সিকোয়েন্স সম্পন্ন করতে পেরেছিল ‘কোরিয়া পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট’, যা পরবর্তীতে কোথাও প্রকাশ পায়নি।