আন্তর্জাতিক
ইরান-ওমানের সমঝোতা: মধ্যপ্রাচ্যে আসছে পরমানুচালিত রণতরি রুজভেল্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১১:১৩ দুপুর
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে ওমান-ইরান। প্রস্তাবিত পথের বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবা খামেনিকে জানানো হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল চুক্তিটির বিষয়ে নজিরবিহীনভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কাউন্সিলের ১৩ সদস্যের মধ্যে ১২ জন চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এক্ষেত্রে, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে কৌশলগত এই জলপথটি আগের অবস্থায় ফিরবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা।
ট্রাম্পের নীরবতা ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন রণতরি
তবে, এসব বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন নীরবতার মধ্যেই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। একই সঙ্গে সাত মাস মোতায়েন থাকার কথা জানা গেছে। তবে, মাত্র কয়েকদিন আগেই রণতরি আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় ওয়াশিংটনকে আনা হয়েছিল।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ সান দিয়েগো থেকে রওনা হয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর আওতাধীন অঞ্চলে মোতায়েন থাকা অন্যান্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে।
USNI এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাসেরও বেশি সময়ের এই মোতায়েনের মাধ্যমে তারা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন-কে প্রতিস্থাপন করবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-কে মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের একজন মুখপাত্র বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে নৌবাহিনীর নীতি হলো -ভবিষ্যৎ অভিযান বা জাহাজের গতিবিধি নিয়ে আলোচনা না করা।
ইরান-ওমান সমঝোতা:
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলের পথ নিয়ে আমরা ওমানের সঙ্গে একমত হয়েছি। সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করলে আমরা প্রণালিটি খুলে দেব।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য একটি সাময়িক করিডোর খুলতে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, বিনিয়োগ শুরু এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।
তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে আগের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলে তারা মনে করছে।