নারী ও শিশু
আত্মহত্যায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি
২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৪৪ দুপুর
শিক্ষার্থীরা নানা কারণে আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেয়। দেশে ২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা একটি সংগঠনের সমীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, এ সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং অনেকটাই পারিবারিক কাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন।
দেশের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে প্রতি বছরের মতো ২০২৫ সালের আত্মহত্যার চিত্র বিশ্লেষণ করেছে সংগঠনটি। ২০২৫ সালে সারাদেশে মোট ৪০৩ জন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য পেয়েছেন তারা। সর্বাধিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে স্কুলপর্যায়ে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১০১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ২০২২ সালে ৫৩২ জন শিক্ষার্থী, ২০২৩ সালে ৫১৩ জন শিক্ষার্থী, ২০২৪ সালে ৩১০ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার (৫৯%) বেশি।
কেন আত্মহত্যা করছেন? প্রাপ্তবয়স্করা বা অভিভাবক যদি শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতামত শুনতে চান। তাহলে পরিস্থিতিটা কেমন হতে পারে? আজকে যদি শিক্ষার্থীদের বর্তমান বিদ্যালয় বাদ দিয়ে অন্য একটি পছন্দমতো বিদ্যালয় বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে তাদের কতজন বর্তমান বিদ্যালয়ে যাবে? কিংবা তাদের যদি পড়ালেখা বাদ দিয়ে যা ইচ্ছে করতে বলা হয়, কতজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা চালিয়ে যাবে? নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের একটি নাটকে দুটো শিশুকে এ ধরনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তারা অবশ্য কিছুদিন পরে এই ‘স্বাধীনতা’ চায় না বলে জানিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের পরীক্ষা করা হলে তার ফলাফল কী হতে পারে? কারণ আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় নয়। বিদ্যালয়ের লেখাপড়া তাদের কাছে আনন্দদায়কও নয়। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এমনই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয়ের অবস্থান।