বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
নারী ও শিশু

জীবনের লক্ষ্য ও বাস্তবতা নিয়ে নারীদের ভাবনা

৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৩৪ রাত

photo

লক্ষ্য সবার জীবনে কম-বেশি থাকে। কিন্তু কতজনে পারেন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে বাস্তবতার সাথে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে কিংবা লক্ষ্য পূরণ করতে। বেশিরভাগই হেরে যান আর্থিক সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক চাপ, নিদারুণ বাস্তবতা এবং পরিস্থিতির কাছে। নারীরা তাদের জীবনের লক্ষ্য পূরণে বাস্তবতার কথা স্বীকার করেছেন।

লক্ষ্যপূরণে প্রথম বাঁধা নারীর নিরাপত্তা

নারী মানবসমাজের প্রাণশক্তি। একটি ভয়হীন ও সুরক্ষিত পরিবেশেই নারী তার মেধা, মনন ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেন। নিরাপদ সমাজ পেলে নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে পারেন, যা একটি শক্তিশালী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে ভুগছেন অধিকাংশ নারী। কিন্তু বাস্তবতা এর চেয়েও কঠিন ও জটিল। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে ক্যারিয়ারে উচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার পরেও নারীরা তা ছাড়তে বাধ্য হয়। আমাদের সমাজে নারীর নিরাপত্তাজনিত নীতি ও আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে যখন নারীরা কর্মে নিযুক্ত হয়; সেইসময় সেগুলোর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই না। এ কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা শিক্ষিত হলেও কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছে না। যার ফলস্বরূপ নারীরা সমাজের মূল উন্নয়ন কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। তারা শিক্ষিত হচ্ছে কিন্তু সমাজ উন্নয়নের কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারছে না। আবার অনেক মেয়েরা পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারে না নিরাপত্তাহীনতার জন্য। ফলে তারা সমাজে অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত হয়ে রয়ে যায়। সুতরাং নারীকে সমাজের মূলস্রোতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নারীদের নিরাপত্তা প্রদান করা অত্যাবশ্যক।

কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া

জীবনের লক্ষ্য কম-বেশি সবারই থাকে। ছোটবেলায় খাতার পৃষ্ঠায় লিখতাম কখনো ডাক্তার, কখনো শিক্ষক, কখনো সরকারি কর্মকর্তা—যা বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তখনকার ওই খাতার পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ। তখন মনে হতো, ইচ্ছা থাকলেই সব সম্ভব। কিন্তু বড় হতে হতে বুঝেছি, স্বপ্নের পাশাপাশি বাস্তবতারও একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। সামর্থের অভাবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নটাই মাটি হয় গেল। টিউশনি করার পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব পড়াশোনা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও পাইনি আমার পছন্দের বিষয়। তখনই বুঝতে শিখলাম, জীবনের সব সিদ্ধান্ত আসলেই আমাদের ইচ্ছামতো হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিত্যনতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার পরেও চাকরির বাজারে হাহাকার। যা কেবল একটা ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ নেই। পাশাপাশি প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা ও সফট স্কিল—সবকিছুরই আলাদা মূল্য রয়েছে। অথচ এসব দক্ষতা অর্জনের কুফল সুফল আমাদের শেখানো হয়নি পাঠ্যবইয়ে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিজেকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। তেমনি হয়ে উঠতে হচ্ছে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে চরম পর্যায়ের প্রতিযোগী। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বের ভারসাম্যও রক্ষা করতে হচ্ছে। সব সময় নিজের পছন্দে স্থির থাকা যায় না। বাস্তবতা অনেক স্বপ্নের পথ বদলে দেয়, আবার নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দেয়। তাই এখন লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট পেশা নয় বরং যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রস্তুত রেখে এগিয়ে যাওয়া।

লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন দক্ষতা

পড়াশোনার আনুষ্ঠানিকতার হাতেখড়ি থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখার প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলমান। একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো তার প্রমাণ।পরিবারের ভরসা ও স্বপ্নের দায়িত্ব প্রতিবার নতুন মাত্রার যে অদম্য শক্তি ও ইচ্ছে—তা নিয়ে উচ্চশিক্ষার পথচলা। এই ধাপেও নিজের গোড়ালি দৃঢ় করা ও কাঠামোয় আবদ্ধ করার প্রয়াসে ছুটে চলতে হয় অবিরাম। পাশাপাশি তো আছেই সহশিক্ষা কার্যক্রম, ভলান্টিয়ারিং, নিজের অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নের কাজ। কিন্তু হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হয় কিছু প্রশ্নের কাছে। চাকরি হবে তো? সম্মান ও অর্থ দুইয়ের ভারসাম্য থাকবে তো? একজন নারী হওয়ায় এ প্রশ্ন চোখ রাঙিয়ে প্রতিনিয়ত ডুকরে গিলে খাচ্ছে আমায়। চাকরির মন্দা কারো অজানা নয়। ফলে বাস্তবতার পরিমাপ কখনোই সমান হওয়ার নয়। অবস্থান অনুযায়ী চাকরি না হওয়ায় মেধা পাচার সমানুপাতিক হারে বেড়েই চলছে। ব্যয়ভার বহুল হওয়ার কারণে তারা পড়ে যায় গৎবাঁধা সেই সরকারি চাকরির নিয়মের যাঁতাকলে। কিন্তু যেখানে সবটা অনিশ্চিতের কুয়াশা; সেখানেও রয়েছে আশার রোদ। দক্ষতা থাকলে চাকরির অভাব হবে না—তেমনি প্রয়োজন মেধা, সাহস, পরিশ্রম ও বুদ্ধির প্রয়োগ।