ভ্রমণ
বৈচিত্র্যময় অপরূপ পাহাড়ি জনপদ কলমাকান্দা
২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৫ বিকাল
আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। সারিবদ্ধ পাহাড়-টিলা। জালের মতো ছড়িয়ে আছে মহাদেও, গণেশ্বরী, মঙ্গলেশ্বরী, ফুলেশ্বরীর মতো নদ-নদী আর ছড়াবেষ্টিত বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি জনপদ কলমাকান্দা। ভারতের মেঘালয় সীমান্তের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা নেত্রকোনার একটি উপজেলা। ৩৭৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলাটি ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি আর সংস্কৃতির সংমিশ্রণে অপরূপ লীলাভূমি।
উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে রংছাতি, লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে রংছাতির চন্দ্রডিঙা ও পাতলাবন এলাকা পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। যেখানে আছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম, পাহাড়ের স্তরে স্তরে লুকিয়ে থাকা রং-বেরঙের পাথর, ঝরনার মতো স্বচ্ছ জলধারা ও সিলিকা বালুর চরাচর। সবকিছু মিলে যেন নৈসর্গিক রূপের রহস্যে ঘেরা ও নানা কিংবদন্তিতে সমৃদ্ধ জনপদ; যা খুলে দিতে পারে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।
চন্দ্রডিঙা ও পাতলাবন পাশাপাশি দুটি এলাকা। গ্রাম দুটির ঠিক উত্তরে সুউচ্চ মেঘালয় পাহাড়। পাহাড়ের খানিকটা বাংলাদেশে পড়লেও সীমানার যে কোনো প্রান্তে দাঁড়ালে ধনুকের মতো বাঁকা পাহাড়পুঞ্জের সৌন্দর্য অনায়াসে উপভোগ করা যায়। সেই সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ওই স্থানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। অবশ্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পর্যটকদের ভ্রমণে কিছুটা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের কড়া পাহারা চলে সার্বক্ষণিক। চন্দ্রডিঙা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে হাতিবেড় এলাকায় বসানো হয়েছে বিজিবি চেকপোস্ট।
হাতিবেড় গ্রামসংলগ্ন চন্দ্রডিঙা পাহাড়টির জনশ্রুতি আছে, পঞ্চদশ শতকে রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম চরিত্র চাঁদ সওদাগরকে নিয়ে। বিদেশি ধনাঢ্য বণিক চাঁদ সওদাগর বাণিজ্য করতে এসে ওই স্থানে সর্পদেবী মনসার অভিশাপে তার ডিঙি বা নৌকা আটকে যায়। এরপর থেকে স্থানটির নামকরণ হয় চন্দ্রডিঙা। অবশ্য এর স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ বা ইতিহাস পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্থানীয়রা লোককাহিনিটি যুগযুগ ধরে বিশ্বাস করে আসছেন।