মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির
ভ্রমণ

ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি

৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৫৫ রাত

photo
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণের স্থান খাগড়াছড়ি। সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সাংস্কৃতিক মিশ্রণে তৈরি এই জেলা। ঘুরতে যাওয়ার জন্য খাগড়াছড়ির ঝরনা ও প্রকৃতি অনেকের ভ্রমণের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পূজার এই ছুটিতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হয় সড়ক পথে। এখানে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি। অবশ্য বছরের যেকোনো সময় যাওয়া যায়। তবে সরকারি কোনো ছুটিকে কেন্দ্র করে গেলে আগে থেকেই টিকেট বুকিং দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রকৃতি, পাহাড় আর ঝরনা সবই আছে এখানে। খাগড়াছড়ির কথা এলেই প্রথমে আসবে আলুটিলার কথা। এটা মূলত প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গুহা। আলুটিলা তাই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। স্থানীয়রা এটাকে আলুটিলা গুহা বলে। সেখানে প্রবেশ করতে হয় হাতে মশাল নিয়ে। অবশ্য এই মশাল আপনাকে আগে সংগ্রহ করে আনতে হবে না। প্রবেশ পথেই মশাল কিনতে পাওয়া যায়। পাহাড়ের এই গুহাতে একা ঢুকলে যেকোনো পর্যটকের শরীর শিউরে উঠবে। তাই গ্রুপে যাওয়া উত্তম।

ঝরনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আরও একটি আকর্ষণ। তা হলো মাতাই পুখিরি। এটা মূলত একটি হৃদ। মহালছড়ি উপজেলার নুনছড়িতে দেবতার আশীর্বাদ স্বরূপ পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক হ্রদ ‘মাতাই পুখিরি’। এ ছাড়াও রয়েছে হর্টিকালচার হ্যারিটেইজ পার্ক, মানিকছড়ির মং রাজবাড়ি, পানছড়ি, শান্তিপুর অরণ্য কুটির, হাতিমাথা পাহাড়, নিউজিল্যান্ড রোড পাড়া এবং মায়াবিনী লেক।

প্রকৃতির পাশাপাশি যারা ঝরনা পছন্দ করেন তাদের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে ‘তৈদুছাড়া ঝরনা’। শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলায় মিলবে এই ঝরনা। ঘন জঙ্গলের মাঝে আঁকাবাঁকা ঢেউ খেলা পথ দিয়ে পাহাড়ের ভাঁজে বয়ে চলছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মায়া কান্না। পথ অতিক্রম করার পাশাপাশি শুনতে পাবেন ঝরনার কলকল জলের শব্দ। মূল ঝরনায় পৌঁছানোর আগেই আপনার শরীরে শিহরন ঘটাবে
প্রকৃতির লীলাখেলা। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অপরামেয় আবিষ্কার। এর পাশাপাশি ঘুরে আসতে পারেন ‘রিসাং ঝরনা’ যা খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাংয়া উপজেলার সাপমারা গ্রামে। স্থানীয়রা একে সাপ মারা রিছং ঝরনা বলে।

এখানে ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখতে পারেন পানির বোতল ও নিচে নামতে সাহায্য করে এ রকম লাঠি। পথটা পিচ্ছিল হওয়ার কারণে প্রয়োজন হতে পারে। একজোড়া স্যান্ডেল অথবা জুতা আপনাকে পিচ্ছিল পথে হাঁটতে সাহায্য করবে।

কোথায় থাকবেন : খাগড়াছড়িতে থাকতে শহরে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল। ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় মিলবে এসব থাকার হোটেল। এখানে ভালোমানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল গাইরিং, অরণ্য বিলাস, গিরি থেবরা ও হোটেল ইকোছড়ি ইন।

যাতায়াতব্যবস্থা : খাগড়াছড়ির এক স্থান থেকে অন্য জায়গা যেতে রয়েছে বাইক অথবা চান্দের গাড়ি। এ ছাড়া কাছাকাছি যাতায়াতের জন্য আছে অটোরিকশা। যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি টমটম নামে পরিচিত। জনভেদে ও স্থানভেদে টমটম গাড়ির ভাড়া পড়বে ১০-৩০ টাকা। চান্দের গাড়ির ভাড়া পড়বে স্থানভেদে জনপ্রতি ৮০-১৫০ টাকা। বাইক মিলবে ২০০-৩০০ টাকা আর সিএনজি পাবেন ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৫০-১৫০ টাকা।