ভ্রমণ
মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি, কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল
৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৪৭ রাত
কখনো বৃষ্টি, আবার কখনো মেঘের আড়াল ভেঙে উঁকি দিচ্ছে রোদ। শ্রাবণের এমন মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরির মধ্যেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। ছুটির দিনে সকাল থেকেই লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও সি-গাল পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত। বিশেষ করে বর্ষার সাগর উপভোগ করতে যারা ভালোবাসেন, তাদের অনেকেই ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগে ব্যস্ত অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন, কেউ বালুকাবেলায় হাঁটছেন। আবার কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটানোর পাশাপাশি ছবি তুলে তা ক্যামেরাবন্দি করছেন।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, কক্সবাজারের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও বেড়েছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। হিমছড়ি, ইনানী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে পর্যটকেরা সমুদ্র উপভোগ করতে নেমেছেন। অনেকে আবার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে টেকনাফ পর্যন্ত ঘুরতে যাচ্ছেন।
তবে পর্যটকের ভিড়ের মধ্যে সমুদ্রের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে লাইফগার্ড সদস্যরা। সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করছে সি সেফ লাইফ গার্ড।
লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড সদস্য মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, ‘এ সময়ে সাগর বেশ উত্তাল থাকে। এর মধ্যে সৈকতের কয়েকটি স্থানে রিপ কারেন্ট বা গুপ্ত স্রোত তৈরি হয়েছে। তাই পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে সাগরে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটন যান, ফটোগ্রাফার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। দীর্ঘ বিরতির পর ব্যাবসা ভালো হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউজ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) অহিদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের হয়রানি ও যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাফিস ইনতেসার বলেন, পর্যটক হয়রানিসহ যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে