প্রবাস
ইউরোপ-আমেরিকায় পা রেখেই যে ভুলটি করবেন না
২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০০ বিকাল
ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতে আসার পর অনেক নতুন অভিবাসীই প্রথম যে মারাত্মক ভুলটি করেন, তা হলো দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া। বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এসে শুরুতেই আয়-রোজগার ও ঋণ পরিশোধের চিন্তায় সবাই এতটাই মশগুল হয়ে পড়েন যে, আসল কাজটি আর করা হয়ে ওঠে না।
কাজের সন্ধান ও প্রাথমিক সামলানোর ধাক্কায় দেখতে দেখতে জীবন থেকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যায়। অথচ ভিসা যে ধরনেরই হোক না কেন, প্রবেশ করার সাথে সাথেই কিংবা প্রথম ছয় মাসের মধ্যে একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি প্রমাণ করা এবং আইনি আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।
আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করার মাশুল হতে পারে ভয়াবহ। সময়মতো আবেদনের কাগজপত্র না থাকলে ব্যাংক হিসাব খোলা, পরিচয়পত্র পাওয়া কিংবা কাজের অনুমোদন পাওয়ার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে যখন দীর্ঘ সময় পর আশ্রয়ের বা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা হয়, তখন আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
যদি দেশে কোনো গুরুতর সমস্যাই থেকে থাকে, তবে আসার পরপরই কেন জানানো হলো না- এই একটি যুক্তিতেই আদালত থেকে আবেদন খারিজ হয়ে যেতে পারে এবং রূপ নিতে পারে দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক আইনজীবীর শরণাপন্ন না হওয়ার কারণে বহু মানুষকে যুগের পর যুগ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বর্তমান সময়ে উন্নত বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে সাধারণ শ্রমভিত্তিক কর্মসংস্থান আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। অটোমেটেড গাড়ি বা আধুনিক কৃষিযন্ত্রের প্রভাবে আগামীতে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফলে ভবিষ্যতে নতুনদের স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এই বাস্তবতায় প্রবাসে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার একমাত্র পথ হলো আসার শুরুতেই আইনি ভিত্তি মজবুত করা। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও মানসিক চাপ সামলাতে বিশ্বস্ত মানুষদের সাথে কথা বলা এবং আয় থেকে কিছু সঞ্চয় করা আবশ্যক, যেন কোনো কারণে দেশে ফিরতে হলেও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচা যায়। প্রথম সুযোগেই আইনি বৈধতা অর্জন করাই প্রবাস জীবনের সফলতা নিশ্চিত করার একমাত্র চাবিকাঠি।