প্রবাস
যেসব ভুলের মাশুল জীবন দিয়ে শোধ করতে হয়
২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:০৪ বিকাল
জার্মানিতে জীবিকা বা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা এখন বহু তরুণের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই স্বপ্নের পেছনে রয়েছে একটি সুশৃঙ্খল, আইনি এবং কঠোর বাস্তবতার জগৎ।
দেখা যায়, সঠিক তথ্যের অভাব এবং কিছু আশঙ্কাজনক ভুলের কারণে অনেকের বছরের পর বছর জমানো স্বপ্ন এক নিমেষে ধুলোয় মিশে যায়। স্বপ্নের দেশে পা রাখার আগে কয়েকটি ভুল কোনোভাবেই করা যাবে না।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে কোনো যাচাই ছাড়া কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়া। কোনো প্রতিষ্ঠানই আপনাকে শতভাগ ছাড়পত্রের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। সরকারি অফিশিয়াল তথ্যবাতায়ন থেকে নিজে তথ্য যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
উচ্চশিক্ষা বা কাজের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঠ্যক্রম সেখানে স্বীকৃত কি না, তা জানা প্রথম শর্ত। প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যভাণ্ডারে নিজের সনদের স্বীকৃতি পূর্বেই নিশ্চিত না করে আবেদন করা মানে আবেদন সরাসরি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া।
আগে পৌঁছাই, তারপর ভাষা শিখব- এটি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা। স্থানীয় ভাষা ছাড়া শুধু দৈনন্দিন জীবনের খাপ খাইয়ে নেওয়াই ব্যাহত হয় না, বরং দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে ভালো কোনো সুযোগ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করে দেশ ত্যাগ করাই বিজ্ঞতার পরিচয়।
আবেদনপত্রে সামান্য অসত্য তথ্য বা ভুল নথিপত্র সরাসরি প্রত্যাখ্যান এনে দেয়। এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্য সেখানে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। প্রতিটি কাগজ সততার সাথে এবং অভিজ্ঞ কারও পরামর্শে প্রস্তুত করা উচিত।
অনেকে কোনোমতে সংরক্ষিত ব্যাংক হিসাবের টাকা জোগাড় করেই দেশ ছাড়েন। কিন্তু পৌঁছানোর পর প্রথম কয়েক মাসের থাকা, খাওয়া ও জরুরি খরচের জন্য পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সঞ্চয় না রাখা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া শিক্ষার্থী হিসেবে বছরে কত ঘণ্টা আংশিক সময় কাজের আইনি অনুমতি আছে, সেই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে বাজেট তৈরি করতে হবে।